
প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার গৃহীত মেগা-প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত সাড়ে
তের বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নের সকল সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নীচে নামিয়ে এনেছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শনিবার (১৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন
উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহুকুমার বৈদ্যনাথতলার
আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন
১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি
এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গণপরিষদ
গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকার শেখ মুজিব-এর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং অনুমোদন
প্রদানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে।
তিনি বলেন, মুজিবনগর
সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই
পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে, অস্থায়ী
সরকার ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকে।
মুজিবনগর দিবসের
৫১ বছর পূর্তিতে জাতির পিতার মহান আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে সকল আশু ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতির পিতার স্বপ্নের
ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করি।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, জাতির পিতা মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহকে প্রাধান্য দিয়ে মাত্র নয় মাসেই একটি সংবিধান
প্রণয়ন করেছিলেন। সাড়ে ৩ বছরের মাধ্যেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে
রূপান্তরিত করেছিলেন। দুর্ভাগ্য, ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট
স্বাধীনতাবিরোধীরা জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৩রা নভেম্বর জেলখানায়
জাতীয় চারনেতাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিলনা।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, “১৯৯৬ সালে সরকার
গঠনের পর, আমরা জাতির পিতা এবং জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচার করেছি। পরবর্তিতে ২০০৯ সালে
পুনরায় সরকার গঠনের পর, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা করে মানবতাবিরোধী অপরাধী ও
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি।” মুজিবনগর দিবসের
৫১ বছর পূর্তিতে জাতির পিতার মহান আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে সকল আশু ষড়যন্ত্র প্রতিহত
করে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করি।”
শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞ চিত্তে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চারনেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে স্মরণ করেন। এছাড়াও বাণীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

