Logo
শিরোনাম

তাইওয়ানে এফডিআই প্রবাহ ১৫ বছরের সর্বোচ্চে

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ১৩৩৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাইওয়ানের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭৫ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে মোট এফডিআই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি। বিদেশী বিনিয়োগের এ পরিমাণ গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।  বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিনিয়োগ বেড়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগ কমিশন। দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ এসেছে ডেনমার্কভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অরস্টেড, ডেনমার্কের বিনিয়োগকারী সংস্থা কোপেনহেগেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার পার্টনারস, নেদারল্যান্ডসের হাই লং এবং যুক্তরাষ্ট্রের কস্টকো হোলসেল থেকে।

গত মাসে মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো হোলসেল জানায়, ১০৫ কোটি ডলার মূল্যে তাইওয়ানের যৌথ প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বিনিয়োগ কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১১৬টি প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্পের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৭৮ কোটি ডলার। তবে চীনের বিনিয়োগ এর আওতাভুক্ত ছিল না।

এক বিবৃতিতে বিনিয়োগ কমিশন জানায়, সরকার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ নীতির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চীন ব্যতিরেকে এ বছরের মোট এফডিআই ১৫ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছনোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালের পর এফডিআইয়ের এত বেশি অর্থপ্রবাহ তাইওয়ানে আর দেখা যায়নি। ওই সময় বন্ধ থাকা টেলিকম, কেবল টিভি ও বিদেশী বিনিয়োগে ব্যাংকিং খাত আবার চালু করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে মার্কিন আইনজীবী মাইকেল ফাহেই বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের ফলে নতুন নতুন শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সবই সামষ্টিক অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। একসময় ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পদ্ধতি তৈরির জন্য এফডিআই ও বিদেশী পারদর্শীদের মুখাপেক্ষী হতে হবে তাইওয়ানকে। বর্তমানে তা দেশেই সক্ষম হচ্ছে। ফলে বিদেশী সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে।

এদিকে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক চাপা উত্তেজনার কারণে তাইওয়ানে বিনিয়োগ করতে পিছিয়ে গিয়েছে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই। আবার অন্যান্য দেশের বিনিয়োগ বাড়া সত্ত্বেও বিনিয়োগ কমেছে চীনের। বিনিয়োগ কমিশন জানায়, বছরের প্রথম ছয় মাসে তাইওয়ানে চীনা বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এর জন্য চীনের লকডাউন পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। লকডাউনের কারণে পরিবহনসহ সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়েছে। তবে সাধারণত কয়েক মাস ধরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়। তাই বিনিয়োগ কমার জন্য একপক্ষীয়ভাবে লকডাউন পরিস্থিতিকে দায় দেয়া যায় না বলে মনে করেন ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক নিক ম্যারো।


আরও খবর