
স্বজনদের ফাঁসানোর
জন্য ‘আত্মহত্যার
স্বীকারোক্তি’ লিখিয়ে মেয়েকে খুন করেছে বাবা। শনিবার (১২ নভেম্বর) ভারতের নাগপুর
থেকে ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে
এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, এর আগে ৬ নভেম্বর নাগপুর শহরের কালামনা এলাকা থেকে ১৬ বছর বয়সী তরুণীর লাশ
উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাবা শ্রমিকের কাজ করতেন।
কালামনা থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কক্ষ থেকে পাওয়া পাঁচটি সুইসাইড নোটের তথ্যের ভিত্তিতে
পুলিশ প্রাথমিকভাবে মেয়েটির সৎ মা, চাচা, খালা ও দাদা-দাদির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায়
প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করে। তবে তদন্তে নিহতের বাবার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে আত্মহত্যার
পরিবর্তে এটিকে হত্যা বলে মনে হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা
জানান, ভুক্তভোগী মেয়েকে আত্মহত্যা করার জন্য বাবা নির্দেশ দিচ্ছেন। মোবাইল ফোনে তারা
এ রকম একটি ছবি পেয়েছেন।
তার আগে ওই
ব্যক্তি মেয়েটিকে আত্মীয়দের নাম জড়িয়ে পাঁচটি সুইসাইড নোট লিখতে বলেন। এরপর মেয়েটি
তার বাবার নির্দেশমতো গলায় ফাঁস বেঁধে একটি চৌকির ওপর দাঁড়ায়। তখন বাবা একটি ছবি
তুলে চৌকিটি সরিয়ে দেয়। এরপর ফাঁসিতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত বাবা
বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ।
কিছুক্ষণ পর
তিনি পুলিশকে ফোন করেন এবং বলেন যে তিনি কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে
জানতে পারেন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে পাঁচজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে
ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু পরে তদন্তকারী
অফিসাররা বুঝতে পেরেছিলেন যে কিছু একটা ভুল ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা
জানান, বাবার ফোনে আত্মহত্যার ছবি পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে তিনি
মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

