
গত বছরের ৩১ মে
সর্বশেষ কোনো পেশাদার ফুটবল ম্যাচ খেলেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড কার্লোস তেভেজ।
এরপর থেকে সবুজ গালিচায় আর না নামা তেভেজ ফুটবল ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিলেন মাঠের বাইরে
থেকে।
আজ (৪ জুন) এক
বিবৃতিতে নিজের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার। নিজের
অবসরের কারণ হিসেবে তেভেজ জানিয়েছেন, এই তারকার সবচেয়ে বড় ভক্ত তার বাবা সেগুন্দো রাইমুন্দো
তেভেজকে হারিয়েই ফুটবল থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আর তাই ফুটবলকে চিরতরে বিদায়
বলে দিলেন এই আর্জেন্টাইন।
সেগুন্দো অবশ্য
তেভেজের বায়োলজিকাল বাবা নন। তেভেজের বায়োলজিকাল বাবা এই তারকার জন্মের আগেই মৃত্যু
বরণ করেন। এরপরই তেভেজকে দত্তক নেন তার খালা আদ্রিয়ানো মার্তিনেজ ও তার স্বামী সেগুন্দো।
যাদের কাছে থেকে বড় হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার। সেগুন্দো ছিলেন তেভেজের
সবচেয়ে বড় ভক্ত।
নিজের অবসর বিষয়ে
তেভেজ বলেন, ‘আমি অবসর নিয়েছি। এটা নিশ্চিত। আমি অনেক প্রস্তাব পেয়েছি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সব শেষ। আমি আমার সবকিছু দিয়ে
দিয়েছি। গত বছর আমার পক্ষে খেলা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু তারপরও আমি আমার বাবাকে দেখতে
পেতাম। আমি খেলা ছেড়ে দিয়েছি কারণ, আমি আমার এক নম্বর ভক্তকে হারিয়ে ফেলেছি।
তেভেজের দত্তক
বাবা সেগুন্দো রাইমুন্দো গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে করোনা ভাইরাস জটিলতায় ইহলোক ত্যাগ করেন।
এরপর থেকে নিজের জীবনের প্রতি অযত্নশীল হয়ে যান তেভেজ। একসময় আর্জেন্টিনায় মেসির চেয়েও
বড় তারকা হিসেবে থাকা তেভেজ এরপর থেকে অতিরক্তি খাদ্য খেতে ও মদ্যপান শুরু করেন। এরফলে
নিজের স্বাভাবিক ফিটনেস হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপরই মাঠ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন এই
আর্জেন্টাইন।
তেভেজের ভাষ্যে,
‘বাবা মারা যাওয়ার
পর আমি খেতে থাকি প্রচুর ও মদপান করি। আমি নিজের যত্ন নিতাম না। যার কারণে আমি মুটিয়ে
যাই। এরপর থেকে আমার আর অনুশীলন করতে যেতে ইচ্ছে হতো না। অথচ এক সময় আমি সকালে ৬টায়
উঠে সবার আগে অনুশীলনে যেতাম এবং সবার পরে আসতাম।’

