
নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বন। মাত্রাতিরিক্ত মৎস্য আহরণে নষ্ট হচ্ছে বিচরণক্ষেত্র। পাশাপাশি অব্যাহত রয়েছে খরা, জলোচ্ছ্বাস ও দাবানলের মতো দুর্যোগও। সব মিলিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী। বিলুপ্তির মুখোমুখি হচ্ছে হাজারো প্রজাতি। এ অবস্থায় সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও নতুন একটি গবেষণা বলছে, জাতীয় উদ্যান ও অন্যান্য সংরক্ষিত এলাকাও সর্বদা বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে পারে না। বিস্তৃত একটি গবেষণায় সুরক্ষিত অঞ্চল নিয়ে এমন মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত গবেষণাটিতে বিশ্বের ১ হাজার ৫০৬টি সংরক্ষিত অঞ্চলের জলাভূমির পাখির তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ২৭ হাজারেরও বেশি পাখির প্রবণতা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন, পাখির জন্য নেয়া অতিরিক্ত ব্যবস্থা সরাসরি কোনো সহায়তা করেনি।
গবেষকরা বলেছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বের ৩০ শতাংশ বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। গবেষণার ফলাফল অনুসারে, বন্যপ্রাণীর প্রজাতি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষার জন্য জাতীয় উদ্যানগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পদক্ষেপ ছাড়া উদ্যান কিংবা সংরক্ষিত অঞ্চলগুলো অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণাটির প্রধান ও যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশনের গবেষক ড. হান্না উয়োহোপ বলেন, আমরা জানি সংরক্ষিত অঞ্চলগুলো বন্যপ্রাণীর আবাস্থলের ক্ষতি রোধ করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে বন উজাড় বন্ধ করার ক্ষেত্রে। তবে অঞ্চলগুলো কীভাবে বন্যপ্রাণীকে সহায়তা করে তা নিয়ে আমাদের খুব কম জ্ঞান রয়েছে। আমাদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, অনেক সুরক্ষিত অঞ্চল বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভালোভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে আবার অনেক অঞ্চল ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের সুবিধার জন্য এলাকাগুলো সুপরিচিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের আরো মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বের সরকারগুলো বর্তমানে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ দশকের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করছে। বেশ কয়েকটি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ স্থল ও সমুদ্র অঞ্চল রক্ষা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। যদিও এ গবেষণায় কেবল জলপাখির দিকে নজর দেয়া হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ পাখির আধিক্য, উপনিবেশ ও দ্রুত স্থান ত্যাগ করার ক্ষমতা এবং ডাটার গুণমান অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে সামগ্রিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। বিজ্ঞানীরা ৬৮টি দেশের সংরক্ষিত এলাকা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ও পরে জলপাখির জনসংখ্যার প্রবণতা তুলনা করেছেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরে একই ধরনের পাখির জনসংখ্যার প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। বেশির ভাগ তথ্য স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ড. হান্না উয়োহোপ বলেন, আমরা বলছি না যে সংরক্ষিত এলাকা কোনো উপকারেই আসছে না। মূল বিষয় হলো এসব অঞ্চলের প্রভাব ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। এক্ষেত্রে বড় বিষয় হলো সংরক্ষিত এলাকাগুলোর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সব প্রজাতির কথা মাথায় রাখা হয় কিনা। আমরা যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া সংরক্ষিত অঞ্চলগুলো কার্যকর হওয়ার আশা করতে পারি না। এমনটাও দেখা যাচ্ছে যে ছোটগুলোর চেয়ে বৃহত্তর সংরক্ষিত এলাকাগুলো ভালো কার্যকর হচ্ছে।

