
রাজধানীর সবুজবাগে গৃহবধূ তানিয়া আফরোজ হত্যায় তিনজন অংশ নিয়েছিল। এই তিনজনকেই গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আবদুল আহাদ। গতকাল সোমবার ঝালকাঠি থেকে মূল অভিযুক্ত বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার রামপুরা থেকে সুমন হোসেন হৃদয় ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে
বলা হয়, এসি সার্ভিসিংয়ের নাম করে বাসায় যায় তারা। বাপ্পী তাঁদের পূর্বপরিচিত। এক–দেড় বছর আগে সে ওই বাসায় এসি লাগিয়ে
দিয়েছিল। এ সময় তানিয়া তাঁর ছোট সন্তানকে নিয়ে রান্নাঘরে ছিলেন। আর বড় সন্তান মায়মুনা
এসির কাজ দেখছিল। একপর্যায়ে এসির কাজ করতে আসা তিনজনের একজন গয়না চুরি করতে গেলে তানিয়া
দেখে ফেলেন ও চিৎকার করেন। এ সময় হৃদয় তানিয়াকে ধরে বালিশচাপা দেয়। পরে বাপ্পী মাথায়
ও পিঠে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তানিয়ার সন্তানেরা এ দৃশ্য দেখে চিৎকার করলে
মায়মুনার মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ও হাত–পা বেঁধে দেওয়া হয়। তার ১০ মাস বয়সী ছোট ভাই তানভীরুলকেও একইভাবে স্কচটেপ
দিয়ে মুখ আটকে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর তারা বাসা থেকে সোনার দুটি চেইন, এক জোড়া কানের
দুল ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার
হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে
রাজধানীর সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। চোখের সামনে মাকে
খুন হতে দেখার পর থেকে মায়মুনা অস্বাভাবিক আচরণ করছে বলে শিশুটির বাবা ময়নুল ইসলাম
জানান। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। চাকরি
সূত্রে তিনি সেখানেই থাকেন।

