Logo
শিরোনাম

রমজানে বদলে যায় জীবনধারা

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ১৮৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

‘মাহে রমজান এলো বছর ঘুরে, মুমিন মুসলমানের দারে দারে।’ রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যলাভের বিশেষ এক মাস। সন্ধ্যার পর পশ্চিমাকাশে রমজানের চাঁদ উদয় হওয়ার পর থেকেই মহিমান্বিত এই মাস শুরু হয়েছে।

রহমত, বরকত এবং মাগফেরাতের মাস বলা হয় রমজানকে। মুসলমানদের পবিত্র এই মাসে বদলে যায় প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। খাবার-দাবারে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। সেহরি ও ইফতারে থাকে ভিন্ন ভিন্ন পদ। দিনভর রোজা, সন্ধ্যায় ইফতার আবার ইফতার শেষে মুসল্লিদের তারাবির জন্য মসজিদে ছুটে চলা। শেষ রাতে আবারও সেহরি-ফজরের নামাজের প্রস্তুতি। সবমিলিয়ে একটা ভিন্নতা চলে আসে এই মাসে। ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য বজায় থাকে। প্রত্যেক মানুষের জীবনধারায় আসে পরিবর্তন।

শনিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ উঠার পর থেকেই সবার মাঝে মাহে রমজানের একটি আলাদা আমেজ তৈরি হয়েছে। তারাবিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সবাই দ্রুতই কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টেলিভিশনগুলোতে বেজে উঠছে রমজানের নানা গজল।

মসজিদে মসজিদেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। রমজানের সময় সকল মসজিদে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি মুসল্লিদের সমাগম ঘটে থাকে। ফলে আগে থেকেই মসজিদ দেখভালের দায়িত্বরতরা পূর্বের চেয়ে আরও বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন।

মুফতি আব্দুর রউফ জানান, রোজা মুসলমানদের জীবন বদলানোর মাস। বিনয়ী সহনশীল হতে হয় এই মাসে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। এই মাসের আবহটা অন্য মাসের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সকালে ঘুম থেকে উঠে চাকরিজীবীদের অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকবে ঠিকই, কিন্তু তাড়া থাকবে না সকালের নাশতার।

প্রতিবছর রমজানকে ঘিরে অফিসের সূচিতেও আনা হয় পরিবর্তন। এবার পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রমজানে বেলা সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে যথারীতি শুক্র ও শনিবার। তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সূচী নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে।

এই মাসে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমও চলে নতুন সূচিতে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম। হাইকোর্ট বিভাগে পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল তিনটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে এবং অধস্তন আদালতে আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে। তবে, দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত থাকবে যোহরের নামাজের বিরতি।

রোজায় চাকরিজীবীরা চেষ্টা করেন হাতের কাজ দ্রুত শেষ করে ঘরে ফিরে পরিবারের সবার সঙ্গে প্রথম রোজার ইফতার করতে। আসরের নামাজের পরপরই নানা ধরনের বাহারি ইফতারে ভরে উঠে রাজধানীর খাবারে দোকানগুলো।

সাধারণত অন্য মাসে সকালে এবং বিকেলে যানজট বেড়ে যায়। রমজানে দুপুরের পর থেকে সবারই ঘরে ফেরার তাড়া থাকে, ফলে দুপুরের পরপরই শহরে যানজটও বেড়ে যায়। দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থেকে সিয়াম সাধনায় নিবেদিত থাকেন ধর্মপ্রাণ লোকেরা। এ কারণে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর ঝাঁপ বন্ধই থাকে। পথের মোড়ে বা ফুটপাতের খাবার ও চায়ের দোকানের সামনেও কাপড় বা পর্দা দিয়ে ঘিরে আড়াল টানা হয়। রোজাদারদের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের আচার-আচরণে সংযম এবং শিষ্টাচার মেনে চলতে সচেষ্ট থাকেন রোজাদার-বেরোজাদার সবাই।

ইফতারে রোজাদাররা বাহারি রান্নার নানা আইটেম নিয়ে আসেন। ছোলা-মুড়িতো আছেই সঙ্গে সুতি কাবাব, শামি কাবাব, রেশমি কাবাব, নানা ধরনের রেজালা। থাকে বিভিন্ন মাংসের আইটেম। কবুতর, কোয়েলের রোস্টসহ হরেক রকমের ইফতারি পণ্য পাওয়া যায় শহরের অলিগলিতে। কেউ বাসায় নিজ হাতেই তৈরি করেন। এর সঙ্গে ছোট-বড় সাইজের জিলাপি ও অন্যান্য মিষ্টান্ন। এছাড়াও যুক্ত হয় নানা ধরনের ফল।

মসজিদগুলোতে আয়োজন করা হয় গণ-ইফতারের। ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে শত শত মানুষ ইফতার করে থাকেন। বিনামূল্যে এই আয়োজন করেন ইসলামি ফাউন্ডেশন।

মানুষের জীবনযাত্রা যেমন পাল্টে যায়, তেমনি রোজায় কমে আসে অপরাধ চিত্রও। সবাই মারামারি হানাহানি কিংবা অহেতুক ঝগড়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এই মাসে। অনেকই দান-খয়রাত বেশি বেশি করে থাকেন, যাকাত দিয়ে থাকেন। রমজান মাসে অসহায় গরিব-দুস্থ মানুষদের ইফতার সেহরি খাওয়ান সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা।

এদিকে, রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকেই বাজারে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে মানুষের। রমজানের পণ্য কিনতে ভিড় ছিল প্রতিটি বাজারেই। নিয়মিত বাজারের পাশাপাশি রোজার বিশেষ পণ্য ছোলা, ডাল, বেসন, খেজুর, ইসুফগুলের ভুষিসহ নানা পণ্য কিনতে দেখা গেছে অনেককেই।

করোনার কারণে গত দুই বছরের ধারা পরিবর্তন হয়ে আবারও পুরনো ধারায় ফিরছে এবারের রোজা। ফলে উৎসবের মাত্রাও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত দুই বছর পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ইফতার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এবার ইফতার কালচার আবার ফিরবে, সে হিসেবে রমজান আলাদা মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজ ট্যাগ: রমজান

আরও খবর

আজ ঈদ

বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪