Logo
শিরোনাম

পৃথিবীজুড়ে সুন্দর পরিত্যক্ত শহর

প্রকাশিত:সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০২৩ | ৭২০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কালে কালে মানুষ কতই না নগর, সভ্যতার পত্তন করেছে। সেখানে দালানকোঠা, দোকানপাট বানিয়েছে, জীবিকা নির্বাহের উপায়ও খুঁজে নিয়েছে। আবার সুবিধা করতে না পেরে সেখান থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র ভাগ্যান্বেষণ করেছে। পেছনে রেখে গেছে পুরো একটি শহরের স্মৃতি। পৃথিবীজুড়ে এমনই কিছু সুন্দর কিন্তু পরিত্যক্ত শহর রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

ক্র্যাকো, ইতালি: দক্ষিণ ইতালির এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটি গড়ে ওঠে ৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে। ইতালির সুদূর দক্ষিণে এটি অবস্থিত। দর্শনীয় এবং আকর্ষণীয় স্থাপত্য থাকায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন পরিত্যক্ত শহরগুলোর মধ্যে একটি। এই শহরের অবস্থানই এর পরিত্যক্ত হওয়ার মূল কারণ। বারবার ভূমিধস হওয়ায় স্থানীয়রা এখানে আর চাষাবাদ করতে পারছিল না। তা ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা আর থাকতেও চাচ্ছিল না। ফলে শহর ছাড়তে শুরু করে লোকজন। ১৯৬৩ সালে যখন শহরটিতে বড় আকারের ভূমিধস হয়, তখনো সেখানে ১ হাজার ৮০০ বাসিন্দার বাস ছিল। এর পর জনসংখ্যা কমতে কমতে ১৯৯০ সালের দিকে শহরটি একেবারেই খালি হয়ে যায়। জনহীন শহরটি ক্রমে ভূতের শহর হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তী সময়ে এই ভূতের শহর কেবল হাজার হাজার পর্যটক আকর্ষণ করেছে, তাই নয়। এটি একটি জনপ্রিয় শুটিংয়ের স্থান হয়ে ওঠে। ২০০৮ সালে জেমস বন্ডের কোয়ান্টাম অব সোলেস-এর মতো চলচ্চিত্রের শুটিং এখানে হয়েছে।

কোলমানস্কোপ, নামিবিয়া: পশ্চিম আফ্রিকার নামিব মরুভূমিতে অবস্থিত কোলমানস্কোপ একসময় হীরার খনির জন্য বিখ্যাত ছিল। জাকারিয়াস লেওয়ালা নামক স্থানীয় এক কর্মী ১৯০৮ সালে এখানে হীরা আবিষ্কার করার পর শহরে মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে। এরপর জীবনের প্রয়োজনে সেখানে ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, যোগাযোগব্যবস্থা- সবই গড়ে তোলা হলো। কিন্তু যে-ই না খনির হীরা ফুরিয়ে যেতে লাগল ১৯৩০ সালের দিকে, অমনি তারা পাততাড়ি গুটিয়ে চলল দক্ষিণে অরেঞ্জ নদী পানে। কেননা, সেখানে ছিল আরও বিশাল হীরার খনি। এভাবে মানুষ কমতে কমতে ১৯৫৬ সালের দিকে পুরো এক পরিত্যক্ত নগরে পরিণত হলো কোলমানস্কোপ। কালক্রমে গোটা শহরটিকে গিলে ফেলে মরুভূমি। যদিও এখনো মরুভূমির মাঝেই সেই শহরের কিছু বাড়ির নান্দনিক সব সাজসজ্জা দেখতে পাওয়া যায়। পর্যটকরা এখানে দেখতে আসেন কীভাবে একটা গোটা শহর মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

কায়াকয়, তুরস্ক: চৌদ্দ শতকে আনাতোলিয়ান মুসলমান ও অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের বসবাসস্থল ছিল এটি। টরাস পর্বতে অবস্থিত এ শহরে তারা বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবেই বাস করত। পরবর্তী সময়ে গ্রিস-তুরস্ক যুদ্ধের বলি হয় এখানকার সম্প্রীতি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সেখান থেকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সরিয়ে নেয়া হয় গ্রিসে। আর মুসলমানদের তুরস্কে। একপর্যায়ে ১৯২০ সালের দিকে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

নিউজ ট্যাগ: পরিত্যক্ত শহর

আরও খবর