
যাত্রী এবং গাড়ির চালক ও সহকারী অবশ্যই মাস্ক পরে গাড়িতে থাকবেন। গণপরিবহনে বর্তমান যে ভাড়া আছে, সে ভাড়াতেই চলবে। তবে বাসে সিটের অর্ধেক যাত্রী বহন করবে
মহানগর পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে বিআরটিএ’র আলোচনায় ভাড়া না বাড়ানো ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বাসে যত সিট, তত যাত্রী নিয়ে যেন বাস চলতে পারে সে ব্যাপারে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে মহানগর পরিবহন মালিক সমিতি।
বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে গণপরিবহনে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী বহনের বিষয়ে বাস মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বনানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি, চালক ও সহকারীদের সনদ বাধ্যতামূলক করাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেছেন পরিবহন মালিকরা। দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার সাংবাকিদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি থেকে সরকারি নির্দেশনা মতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল করবে। যাত্রী এবং গাড়ির চালক ও সহকারী অবশ্যই মাস্ক পরে গাড়িতে থাকবেন। গণপরিবহনে বর্তমান যে ভাড়া আছে, সে ভাড়াতেই চলবে। তবে বাসে সিটের অর্ধেক যাত্রী বহন করবে।’
চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহানগর পরিবহন মালিক সমিতিসহ অন্যান্য স্টক হোল্ডাররা অনুরোধ করেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসে যত সিট তত যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার জন্য। যতক্ষণ সরকার এ ব্যাপারে অনুমতি না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই সিটে একজন করে যাত্রী চলাচল করবেন।’
২০২০ সালে লকডাউনের প্রথম দফায় ৬৮ দিন বাসসহ সবধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সে বছরের ১ জুন থেকে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল শুরু হয়। মালিকদের প্রস্তাবে সে বার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। গত বছর দুই দফার লকডাউনের পরও ভাড়া বাড়িয়ে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলেছিল বাস।
তবে ডিজেলের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৮ নভেম্বর বাসের ভাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। ঢাকায় বাসের ভাড়া কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারে এক টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এক টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। কিন্তু আসন বিন্যাসের কারণে ৪০ আসনের বাসে সেই ভাড়া পড়ছে দুই টাকা ৩৪ পয়সা।
এদিকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্ক অবস্থা চলছে। বাংলাদেশেও এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে, যা আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে।
করোনা ঠেকাতে আজ থেকে ট্রেনের ২৫ শতাংশ টিকিট অনলাইনে এবং ২৫ শতাংশ কাউন্টারে বিক্রি করা হবে। এছাড়া লঞ্চ কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

