
প্রাণঘাতি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের
ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে কোরবানির পশু অনলাইনে কেনাবেচার অনুরোধ জানিয়েছে মৎস্য
ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তাই শু ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্থানে রূপ নিয়েছে
অনলাইন মাধ্যম। গত ১৫ দিনে আড়াই লাখের বেশি পশু বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৯শ কোটি টাকায়।
আপলোড হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখেরও বেশি পশুর তথ্য। ২ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে
অনলাইনে এসব পশু বিক্রি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অনলাইন বাজারে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ
কোরবানিযোগ্য পশুর মোট ছবি আপলোড হয়েছে ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬১২টি।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) এসব তথ্য উঠে এসেছে
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কোরবানিযোগ্য পশু বিক্রয় কার্যক্রম অগ্রগতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে।
হিসেব করে দেখা যায়, গত ১৫ দিনে মোট ২
লাখ ৬৩ হাজার ২১৬টি পশু বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য এক হাজার ৮৩২ কোটি ৯৭ লাখ ৮৩
হাজার ২৫৭ টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে
দেখা গেছে, অনলাইনে পশু বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মোট
এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯৪টি পশু বিক্রি হয়েছে, যার বাজারদর ৯৮১ কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৮
টাকা। পরের স্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ২৭৫টি পশু বিক্রি
হয়েছে ৩৪০ কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৩৮২ টাকায়।
রাজশাহী বিভাগে ৩৭ হাজার ২৯১টি পশু বিক্রি
হয়েছে ২০৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৯৯ টাকায়। খুলনা বিভাগে ১৩ হাজার ১৩৩টি কোরবানির পশু
বিক্রি হয়েছে ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৭ ৫০০ টাকায়। বরিশাল বিভাগে এক হাজার ৮৩১টি গবাদি পশু
বিক্রি হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকায়।
সিলেট বিভাগে দুই হাজার ৯১৯টি কোরবানির
পশু বিক্রি হয়েছে ১৭ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৮ টাকায়। রংপুর বিভাগে ৩৩ হাজার ২৮৪টি পশু
বিক্রি হয়েছে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯০ টাকায়। ময়মনসিংহ বিভাগে এক হাজার ২৮৯টি
পশু বিক্রি হয়েছে ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৩০ টাকায়।
মোট দুই লাখ ৬৩ হাজার ২১৬টি পশু বিক্রি
হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ২৩৯টি এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫৮ হাজার
৯৭৭টি। সবমিলিয়ে কোরবানির মোট বাজারমূল্য এক হাজার ৮৩২ কোটি ৯৭ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৭ টাকা।
এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের খামার শাখা
সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে চলতি বছর কোরবানিযোগ্য এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি পশু
প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর প্রস্তুত ছিল এক কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি পশু। আর কোরবানি
উপলক্ষে জবাই করা পশুর সংখ্যা ছিল ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি। অবশ্য এর আগের বছরে এক কোটি
চার থেকে পাঁচ হাজার পশু জবাই হয়েছে।
অনলাইন কিংবা ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে কেনা
কোরবানির পশু পরিবহনের সময় হাসিল দাবি বা আদায় করা আইনানুগ নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বুধবার
(১৪ জুলাই) এ চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা
উপলক্ষে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক সরাসরি ও অনলাইন-ডিজিটাল প্লাটফর্মে
কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় অব্যাহত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে
বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সভায় জানানো হয়, অনলাইন-ডিজিটাল প্লাটফর্মে বাজার
পেরিফেরির বাইরে অথবা খামারির কাছ থেকে কেনা পশু পরিবহনকালে ইজারাদার বা তার নিয়োজিত
লোকজন হাসিল দাবি বা আদায় করার চেষ্টা করছে, যা আইনানুগ নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় শুধু অনলাইন-ডিজিটাল
প্লাটফর্মে বাজার পেরিফেরির বাইরে অথবা খামারির কাছ থেকে কেনা পশু পরিবহন করার সময়
ইজারাদার বা তার নিয়োজিত লোকজন যাতে হাসিল দাবি বা আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে অনলাইনে যে পরিমাণ কোরবানির পশু
কেনাবেচা হচ্ছে তা খুবই আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়ে মৎস ও পশুসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণ
রোধে আমাদের জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। এ বাস্তবতায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিটাল
হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ বছর মোট কেরবানির পশুর ২৫ শতাংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিপণনের
লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, অনলাইনে গরু
কেনা ও বিক্রিতে কোনো খরচ না থাকায় দিন দিন এই মাধ্যম জনপ্রিয় হচ্ছে। কেউ অনলাইনে গরু
বিক্রি করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে জানালেই সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তা অনলাইন প্ল্যাটফরমে সেই পশুর তথ্য আপলোড করে দিচ্ছেন।
ডিজিটাল হাট-এর নির্দেশিকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
থেকে দেওয়া বলা হয়েছে, বিক্রেতার ডেলিভারি করা পশুটি যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, যে পশু অর্ডার
করা হয়েছে তার সঙ্গে যদি মিল না থাকে, পশুর ওজনের ক্ষেত্রে বেশি অসামঞ্জস্য (১০% এর
বেশি) অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে পশুটি ক্রেতা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে
বিক্রেতা তাত্ক্ষণিক সমমূল্যের/সমওজনের আরেকটি সমজাতীয় পশু ক্রেতাকে যথাসময়ে দিতে বাধ্য
থাকবেন।
এছাড়া, বিক্রেতা/মার্কেটপ্লেস যথাসময়ে ক্রেতার অথবা স্লটারিং হাউজে কোরবানির পশু সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে বিক্রেতা/মার্কেটপ্লেস পশুর সমপরিমাণ মূল্যের দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে।

