
সাভারের হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজটি অবৈধভাবে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এই কলেজেরই শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্কুল শাখার এক শিক্ষার্থী। সোমবার (২৭ জুন) ভোর সোয়া ৫টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সোমবার (৪ জুলাই) দাখিল করা প্রতিবেদনে মাউশি কর্মকর্তারা জানান, সাভারের হাজী ইউনুছ আলী কলেজ পুরোটাই অবৈধভাবে চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্লে থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে কেবল কেজি স্তরের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি কোড নম্বর আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কোনো অনুমোদন নেই। আর কলেজ শাখার অনুমোদন থাকলেও এক বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা এই তথ্য পেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, কলেজের অনুমোদন ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছিল। নতুন করে অনুমোদন নবায়ন করতে কমিটির রেজুলেশন প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের গভর্নিং বডির মেয়াদ না থাকায় আবেদন করা সম্ভব হয়নি। মাধ্যমিক পর্যায়ে অনুমোদন ছাড়া অন্যরা যেভাবে চালায় আমারও একইভাবে চালাচ্ছি। অন্যরা চললে আমাদেরটা অবৈধ কেন হবে? আমাদের কমিটি স্থগিত করে রাখা হয়েছে। সেটি গঠন হলে আমরা মাধ্যমিকের পাঠদান অনুমোদনের জন্য আবেদন করবো। তার মধ্যে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। শিক্ষাবোর্ড বা মাউশি থেকে কী প্রতিবেদন দিলো তা আমাদের দেখার বিষয় না, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়ে থাকে। ৪৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যেন টিকে থাকে, সেই সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানান তিনি।
মাউশির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষক হত্যায় জড়িত দশম শ্রেণির আশরাফুল ইসলাম জিতুর জন্ম ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি। তিনি রাজধানীর উত্তরার তানজিমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসা থেকে ২০২০ সালে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পাস করে। এই হিসাবে ঘটনার দিন তার বয়স ১৯ বছর ৫ মাস ১০ দিন। গত ২৫ জুন হাজী ইউনুছ আলী কলেজে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। শিক্ষক উৎপল স্কুল ভবনের বিপরীত পাশে বসে খেলা দেখছিলেন। তখন জিতু হঠাৎ করে উৎপলের মাথা ও বুকে বার বার আঘাত করে। তখন খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম দ্রুত এসে জিতুকে ধরে ফেলেন। পরে অন্য শিক্ষকরা উৎপলকে নিয়ে হাসপাতালে যান।
এতে আরও বলা হয়, স্কুল শাখার অনুমোদন না থাকায় গত দুই বছর নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান ইদ্রিস আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আমছিমোড় সেসিপ মডেল হাইস্কুল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। কেজি স্কুলের জন্য একটি কোড দেখালেও কোনো অনুমতি বা স্বীকৃতি দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠান প্রধান। ২০১৩ সালে কলেজ শাখার অনুমতি নিলেও ২০২১ সালের ৩০ জুন এর প্রাথমিক স্বীকৃতির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৮২ জন শিক্ষার্থী আছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কলেজের অনুমোদন নিয়ে স্কুল চালাচ্ছে বলে আমরা শোকজ দিয়েছি। হাজী ইউনুছ আলী কলেজে অনেক আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেছে। সে কারণে তারা অ্যাডহক কমিটি গঠনে আবেদন করলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শোকজের জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

