
নতুন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট। এদিকে সংকট
কবলিত দেশটিতে খানিক স্বস্তি ফেরাতে জ্বালানিবাহী একটি জাহাজ পৌঁছেছে।
দেশ ছেড়ে পালানো
সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগপত্র শুক্রবার গ্রহণ করেছে পার্লামেন্ট।
শ্রীলঙ্কা ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে মালদ্বীপ পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুর পৌঁছে পদত্যাগপত্র
পাঠান গোটাবায়া। বিক্ষোভকারীরা বাসভবনে ঢুকে পড়ার কিছুক্ষণ আগে সেখান থেকে বেরিয়ে যান
তিনি।
শনিবার পার্লামেন্ট
অভিমুখী সড়কে একশ’র বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যারিকেড
ও পানি ছিটানো মেশিন রাখা হয়েছে। অপর পাশের রাস্তায় টহল দিচ্ছে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত
নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের কোনও চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
নতুন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে এক সপ্তাহ সময় পাচ্ছেন আইনপ্রণেতারা। এই সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের
দায়িত্ব পালন করবেন রাজাপাকসের ঘনিষ্ঠ, ছয় বারের প্রধানমন্ত্রী এবং নিজ দলের একমাত্র
পার্লামেন্ট সদস্য রনিল বিক্রমাসিংহে।
বিক্ষোভকারীরা
রনিল বিক্রমাসিংহেরও পদত্যাগ চায়। শুক্রবার তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করেছে
ক্ষমতাসীন দল। ফলে তিনি নির্বাচিত হলে আবারও বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধীদের মূল
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন সাজিথ প্রেমাদাসা। এছাড়া সম্ভাব্য কালো ঘোড়া হয়ে উঠতে
পারেন ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র আইনপ্রণেতা ডুল্লাস আলাহাপেরুমা।
অর্থনৈতিক সংকটের
কবলে পড়া শ্রীলঙ্কায় গত কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছে। তবে গত সপ্তাহে সেই বিক্ষোভ চূড়ান্ত
উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলম্বোর বিভিন্ন সরকারি ভবন দখলে নিয়ে নেয় বিক্ষোভকারীরা। আর্থিক
সংকটের জন্য রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করছে তারা।
দুই কোটি ২০
লাখ মানুষের দেশটিতে জ্বালানির জন্য দিনভর লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রার
রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া গত মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৫৪.৬ শতাংশে
পৌঁছায়।
জ্বালানিমন্ত্রী
কাঞ্চনা ভিজেসেকারা জানান, শনিবার জ্বালানির তিনটি চালান হাতে পেতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
গত তিন সপ্তাহের মধ্যে এবারই প্রথম এসব জ্বালানির চালান দেশটিতে পৌঁছেছে। শনিবার ডিজেলের
আরেকটি চালান পৌছানোর কথা রয়েছে। মঙ্গলবার পৌছাবে পেট্রলের চালান। মন্ত্রী জানান, ‘এই তিনটি চালানের মূল্য পরিশোধ
হয়ে গেছে’।

