
আগামী দিনের তারকা
খুঁজে নাও। এই মন্ত্রই দেখা গেল শনিবার বেঙ্গালুরুর মহানিলামে। যেখানে সব চেয়ে উজ্জ্বল
মুখ হিসেবে উঠে এলেন দুই ভারতীয় তরুণ। ঈশান কিশান এবং শ্রেয়স আয়ার। প্রথম জনকে মুম্বই
ইন্ডিয়ান্স কিনল ১৫.২৫ কোটি টাকায়। আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের ভারতীয়
ক্রিকেটার হয়ে গেলেন ধোনির শহরের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
ভারতীয় হিসেবে
নিলামে সর্বোচ্চ মূল্যের ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ। তাঁর দর উঠেছিল ১৬ কোটি টাকা। অল্পের
জন্য যুবির সেই রেকর্ড রক্ষা পেল। যদিও নিলামের বাইরের আয়োজনে আরও উচ্চ মূল্যের উদাহরণ
রয়েছে। বিরাট কোহলি ১৭ কোটি দর পেয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে। এ বারে
নতুন দল লখনউ সুপারজায়ান্ট একই মূল্যে কে এল রাহুলকে নিয়েছে নিলামের আগেই।
অন্য দিকে, শ্রেয়স
আয়ারকে ১২.২৫ কোটিতে তুলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তিনি যে সম্ভাব্য অধিনায়ক এবং
দীর্ঘমেয়াদী লগ্নি হিসেবে তাঁর নাম ভাবা হচ্ছে, সন্দেহ নেই। তবে শ্রেয়সকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
ফেলতে পারেন প্যাট কামিন্স। সদ্য অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন
কামিন্স। নতুন মরসুম শুরুর আগে ব্রেন্ডন ম্যাকালামেরা বেছে নেবেন নতুন নেতা কে হবেন।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের
প্রথম দিনের নিলামের ‘স্কোর’ কী রকম? বলা
যেতে পারে দারুণ শুরু করেছিল শাহরুখ খানের দল। মার্কি ক্রিকেটারদের দিয়ে শুরু হওয়া
প্রথম বিভাগে ঝড় তুলে তারা তুলে নিয়েছিল দুই সেরা মুখ শ্রেয়স আয়ার এবং প্যাট কামিন্সকে।
তার পর ক্রমশ যেন রানের গতি কমে যাওয়ার মতো হল। দিনের শেষে নাইটদের ঘরে মাত্র ন’জন ক্রিকেটার রয়েছে। অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে
বাকি ঘর গোছাতে হবে। অন্তত কুড়ি জন ক্রিকেটারের দল তো গড়তেই হবে।
সবচেয়ে বড় কথা,
ভাল কোনও উইকেটকিপার নেই এখনও। দীনেশ কার্তিক বেরিয়ে গিয়েছেন। অথচ দ্বিতীয় দিনের জন্য
তেমন ভাল কেউ পড়েও নেই। শোনা গেল, স্যাম বিলিংস, ম্যাথু ওয়েড, ডেভন কনওয়ের মতো বিক্রি
না হওয়া উইকেটকিপারদের ফেরানো হতে পারে দ্বিতীয় দিনের নিলামে। তখন কেকেআরের টার্গেট
হতে পারেন এই তিন জনের মধ্যে কেউ। বিলিংস অবশ্যই প্রথম টার্গেট। তবে সেক্ষেত্রে এক
জন বিদেশির মূল্যবান জায়গা নিয়ে যাবেন উইকেটকিপার।
জানা গেল, নাইটরা
এ দিন নিলামে বসেছিলে প্রথম একাদশ বেছে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। সে দিক দিয়ে উইকেটকিপার
ছাড়াও খামতি থেকে গিয়েছে ভাল ওপেনার তুলতে না পারা। কামিন্সের সঙ্গে শিবম মাভিকে পেয়ে
তারা খুশি কারণ প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ বা কমলেশ নাগারকোটির চেয়ে মাভিকে ভাল টি-টোয়েন্টি বোলার
মনে করছে তারা। নীতীশ রানাকে কেকেআর নিল ৯ কোটিতে।
নিলামে অবশ্য
বোলারদের দাপটও দেখা গেল। দীপক চাহারকে ১৪ কোটি ব্যয় করে রেখে দিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনির
চেন্নাই সুপার কিংস। শার্দূল ঠাকুরকে দিল্লি ক্যাপিটালস ছিনিয়ে নিল ১০.৭৫ কোটি টাকায়।
হর্ষল পটেলকে ধরে রাখার জন্য ১০.৭৫ কোটি ব্যয় করতে দ্বিধা করল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স
ব্যাঙ্গালোর। শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গের জন্যও আরসিবি ব্যয় করল ১০.৭৫ কোটি। প্রসিদ্ধ
কৃষ্ণকে ১০ কোটিতে তুলে নিল রাজস্থান রয়্যালস। আর এক পেসার, দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে
খেলা আবেশ খানকে ১০ কোটি টাকায় কিনল নতুন দল লখনউ সুপারজায়ান্ট। সব মিলিয়ে তরুণ ভারতেরই
জয়জয়কার প্রথম দিনে।
এখানেই শেষ নয়।
এর পরে ‘আনক্যাপ্ড’ (যাঁরা এখনও দেশের হয়ে খেলেননি) ক্রিকেটারদের
নিলাম শুরু হতেই আরও বড় চমক। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিনিশার হিসেবে নজর কাড়া শাহরুখ খান
এবং রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সফল অলরাউন্ডার রাহুল তেওয়াটিয়া— দু’জনেরই দর উঠল
৯ কোটিতে। মাত্র ৪০ লক্ষের প্রাথমিক দর থেকে ৯ কোটিতে পঞ্জাব কিংসে গেলেন ক্রিকেটের
শাহরুখ। রাহুল তেওয়াটিয়াকে একই টাকায় কিনে নিল গুজরাত টাইটান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের
রাহুল ত্রিপাঠীর ম্যাচ জেতানো ইনিংস দেখে আমিরশাহিতে শাহরুখ খান বলেছিলেন, ‘‘রাহুল, নাম তো
সুনা হি হোগা!’’ কিন্তু কেকেআর ধরে রাখতে পারল না তাঁকে। রাহুলকে ৮.৫
কোটিতে তুলে নিল সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ।
বেঙ্গালুরুতে নিলাম সঞ্চালনা করতে করতেই হিউ এডমিডস পড়ে যান। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত বোর্ড কর্তা, দলের মালিকেরা স্তব্ধ হয়ে যান। দ্রুত মধ্যাহ্নভোজের বিরতি ঘোষণা করে দেওয়া হয়। ডাক্তারেরা দেখেন হিউকে। সাড়ে তিনটের পরে ফের শুরু হয় নিলাম। হিউ আর ফিরে আসেননি সঞ্চালনা করতে।

