
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েই পাকিস্তানকে ৯ রানে হারালো নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে বাংলাদেশের দেওয়া ২৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২৫ রান তুলতে পারে পাকিস্তানী নারীরা। বোলারদের অসাধারণ নৈপূন্যে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ওপেনার সিদরা আমিন শতক হাঁকালেও হারের তিক্ত স্বাদ পায়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১৮ ম্যাচে হার দেখলো পাকিস্তান।
শেষ ওভারে জয়ের
জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। তবে হাতে ছিল মাত্র ১ উইকেট। নাহিদার করা শেষ
ওভার থেকে ৬ রানের পাকিস্তান তুলতে পারে মাত্র ।
ম্যাচে ওপেনিংয়ে
বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের উপর চাপ দিচ্ছিল পাকিস্তান। তবে রুমানা হকের হাত ধরে কাঙ্ক্ষিত
ব্রেকথ্রু পায় টাইগ্রেসরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ২৩ ওভারে তুলে ফেলে ৮৯
রান। তবে রুমানা পাকিস্তান ওপেনার নাহিদাকে বোল্ড করে খেলায় ফেরায় বাংলাদেশকে। নাহিদা
৬৭ বলে ৪৩ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।
এরপর ফাহিমা,
জাহানার ও রুমানার বোলিং নৈপূন্যে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তানীরা। টানা তিন পাকিস্তানী
ব্যাটারকে শূন্য রানে ফেরায় টাইগ্রেস বোলাররা। শেষদিকে ম্যাচে পাকিস্তানের সেট ব্যাটার
সিদরাকে রান আউট করে জয়ের পাল্লা নিজের দিকে টেনে আনে জ্যোতির দল।
এর আগে হ্যামিল্টনে
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ফারজানার অর্ধশতকের পাশাপাশি শারমীন ও অধিনায়ক জ্যোতির
ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২৩৪ রান তোলে বাংলাদেশের নারীরা। এর আগে পাকিস্তানের
বিপক্ষে বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৯/২১১।
এ ম্যাচেও দলকে
ভালো সূচনা দেয় দুই টাইগ্রেস ওপেনার শামীমা ও শারমীন। ৩৭ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে
শামীমা ১৭ রান করে নিদা ধারের শিকার হলে ভাঙ্গে ওপেনিং জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার
শারমীনকে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন ইনফর্ম ফারজানা।
শারমীন ৫৫ বলে
৬ চারে ৪৪ রান করে ওমাইমা সোহেলের শিকার হলে মাঠে আসেন অধিনায়ক জ্যোতি। তৃতীয় উইকেটে
ফারজানার সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন জ্যোতি। তবে ৬৪ বলে ৪৬ রান করা জ্যোতিকে ফাতিমা আউট
করলে বিশ্বকাপে শতরানের জুটি গড়া মিস হয় টাইগ্রেসদের। ফারজানা-জ্যোতি বিশ্বকাপে নিজেদের
সর্বোচ্চ ৯৬ রানের জুটি গড়েন।
পাঁচে নামা
রুমানা রান বাড়ানোর জন্য শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। তবে ১৩ বলে ২ চারে ১৬ রান
করে ফেরেন রুমানা। অপরপ্রান্তে ৮৯ বলে অর্ধশতক তুলে নেন ফারজানা। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের
পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ফিফটির দেখা পেলেন ফারজানা। এ নিয়ে ওয়ানডেতে ৯টি ফিফটি পেলেন
ফারজানা।
এই ফিফটিতে
টাইগ্রেসদের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হলেন এই ব্যাটার। ১১৫ বলে ৫ চারে
৭১ রান করে ফিরলে ফারজানার মোট রান দাঁড়ায় ৯৭২। এর আগে সর্বোচ্চ রানের মালিক রুমানার
পাকিস্তান ম্যাচশেষে রান দাঁড়ায় ৯৩১।
শেষদিকে রিতুমণি
ও সালমা খাতুন ১১ রানে ৭/২৩৪ স্কোর পায় টাইগাররা। পাকিস্তানের পক্ষে নাসরা সান্ধু ৪১
রানে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া ফাতিমা, নিদা এবং ওমাইমা পান ১টি করে উইকেট।

