
পূর্বের ঘটনার জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দুই হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১০ জন।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বার) জুমার নামাজের পর সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বঙ্গবন্ধু হলের নেতা-কর্মীরা বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতিতে জড়ায়। বিষয়টি হলের সিনিয়র নেতারা সমাধান করে দিলেও রেশ থেকে যায় দুই হলের নেতা-কর্মীদের মনে।
পরে রাত সাড়ে ১১টায় নজরুল হলের কয়েকজন বঙ্গবন্ধু হলের সামনে খাবার খেতে গেলে আবার হাতাহাতি শুরু হয় তাদের মধ্যে এবং দুই হলের সহস্রাধিক নেতা-কর্মীরা লাঠি, স্ট্যাম্প, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে এক পক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে ইট ছুটতে থাকে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু হলের নেতা-কর্মীরা নজরুল হলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করলে তারা নিজ হলে ঢুকে যায়। বঙ্গবন্ধু হলের নেতা-কর্মীরা হল লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে। ইটের আঘাতে উভয় হলের পাঁচজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয় এবং কয়েকজনের শরীরে বিভিন্ন অংশে জখম হয়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১২ ব্যাচের ইকবাল (আইন) ১৫ ব্যাচের অনুপ (নৃবিজ্ঞান) ১৪ ব্যাচের সোহাগ (রসায়ন) ও রাকিব (আইন) কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১৩ ব্যাচের সাকিব হাসান দীপ (মার্কেটিং)। টানা আধা ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থেমে যায় এবং উভয় হলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।
সংঘর্ষের বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হাসান পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধুর হলের তিন-চারশ পোলাপাইন আমাদের হলে এসে হামলা চালায়। আমি হলের সবাইকে ভিতরে রাখার চেষ্টা করেছি। ওরা যেভাবে হামলা চালিয়েছে কয়েকজন মার্ডার হতে পারতো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সংঘর্ষের বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘এসময় কারা কি করছে আমি দেখছি। আমি সবাইকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। এখন হলের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে। যে ঘটনা ঘটেছে সে ঘটনা যাতে পরবর্তীতে আর না ঘটে এ জন্য আমার সভাপতির সঙ্গে বসতে হবে এবং সবাইকে নিয়ে সমাধান করতে হবে।
সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের কথা শুনে আমি হলে আসি। এরপর প্রক্টোরিয়াল টিমকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হলে নিয়ে এসে হলের ফটক বন্ধ করে দেই। এখন শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছে। তবে আমার শিক্ষার্থীদের যারা মারধর করেছে তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এখন শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি বসে এটা সমাধান করব।

