
কয়েক দিন পরই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো
ম্যারাডোনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। শ্রদ্ধা-তর্পণে মুখরিত হবে ফুটবল-বিশ্ব। ম্যারাডোনা-আখ্যান
ধ্বনিত হবে চারদিকে। কিন্তু এর আগেই বেসুরো বাঁশির মতো ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে হাজির
হয়েছে গুরুতর এক অভিযোগ। ম্যারাডোনার এককালের অপ্রাপ্তবয়স্ক বান্ধবী মাভিস আলভারেজ
ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন প্রয়াত এই কিংবদন্তির নামে।
শুধু ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন বলাটা ভুল
হবে; অপহরণ, নারী পাচার, ধর্ষণ, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কৃত্রিম স্তন প্রতিস্থাপন, শারীরিক
নির্যাতন, জোর করে নেশা করানো—আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবেকে
দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাভিস যেন অভিযোগের ডালি নিয়ে বসেছিলেন!
মানব পাচারের মামলায় আর্জেন্টিনার বিচার
বিভাগের সামনে সাক্ষ্য দিতে ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনায় এসেছেন
৩৭ বছর বয়সী এই কিউবান নারী। এখানে এসেই ইনফোবেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোমা ফাটিয়েছেন।
এর আগে আর্জেন্টিনায় একবারই এসেছিলেন, সেই ২০০১ সালে, ম্যারাডোনার সঙ্গেই। তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক
ছিলেন।
মাভিসের দাবি, কিউবা থেকে তখন একপ্রকার
অপহরণ করেই ম্যারাডোনা নিয়ে এসেছিলেন তাঁকে। প্রথমে বাক্সে ভরে সবার অগোচরে মাভিসকে
আর্জেন্টিনায় আনতে চাইলেও বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোগিতা ও বিশেষ অনুমতিতে বুয়েনস
এইরেসে মাভিসকে নিয়ে যান ম্যারাডোনা।
দুজনের সম্পর্কের শুরুটা কিউবার রাজধানী
হাভানাতেই। মাভিস সেখানকারই মেয়ে। ২০০১ সালে হাভানার এক হোটেলে মাভিসকে ‘ধর্ষণ’ করেন ম্যারাডোনা।
তখন মাভিসকে নিতে তাঁর মা হোটেলে এসেছিলেন। ম্যারাডোনা মেয়ের সঙ্গে মায়ের দেখা করতে
দেননি। এরপর কী হয়েছিল?
শুনুন মাভিসের মুখেই, ‘ম্যারাডোনা আমার
মুখ চেপে রেখেছিলেন, যাতে আমি চিৎকার না করতে পারি। আমি তাই কিছু বলতে পারিনি। এরপর
আমাকে ধর্ষণ করেন তিনি। সেদিন মা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি জানতেন, আমরা
ওই হোটেলের কোন কক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিয়েগো কক্ষের দরজা খোলেননি। আমার মা কেঁদে কেঁদে
দরজায় কড়া নেড়েই যাচ্ছিলেন। তাও ডিয়েগো রাজি হননি। পরে ক্লান্ত হয়ে আমার মা চলে যান।
কারণ, ম্যারাডোনা দরজা খুলছিলেনই না।’
এত দিন পর মাভিস কেন এ অভিযোগ এনেছেন?
এত দিন মুখ খোলেননি কেন? প্রশ্নের উত্তরে উঠে এসেছে মাভিসের মেয়ের কথা, ‘দেখুন, ফিদেল
কাস্ত্রোও মারা গেছেন, ডিয়েগো ম্যারাডোনাও মারা গেছেন। আমার মেয়ের বয়স এখন ১৫ বছর।
মনে হয়েছে, আমার মেয়ের বয়স এখন ঠিক তেমন, যে বয়সে আমার সঙ্গে ওসব হয়েছিল।’
কিউবা থেকে মাভিসকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস
এইরেসে এনেও বন্দী করে রেখেছিলেন ম্যারাডোনা, ‘আমি হোটেল থেকে
বেরোতে পারতাম না, আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। আমাকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমি কিছুই
জানতাম না শহরটার ব্যাপারে। সব সময় একজন বা দুজন আমাকে দেখে দেখে রাখত। ডিয়েগোর নিরাপত্তার
জন্য নিয়োজিত ছিল তারা। আমি হোটেল থেকে বেরোতে চাইলে তারা আমাকে বলত, আমি যেন তাদের
চাকরি করাটা কঠিন করে না তুলি।’
২০০১ সালের অক্টোবরে বুয়েনস এইরেসে বোকা
জুনিয়র্সের মাঠ লা বোম্বানেরায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল
বিশ্ব একাদশ। সে ম্যাচের জন্যই মাভিসকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় এসেছিলেন ম্যারাডোনা। পরিকল্পনা
ছিল, ম্যাচ শেষে আবারও কিউবায় ফেরত যাবেন তিনি। কিন্তু পরে সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন
আসে, আরও বেশ কিছুদিন আর্জেন্টিনায় থেকে যান তাঁরা। কিন্তু কেন?
উত্তর জানলে চমকে যেতে হবে, ‘ম্যারাডোনা কৃত্রিমভাবে
আমার স্তন প্রতিস্থাপন (ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট) করাতে চেয়েছিলেন। আমি তখন নাবালিকা, তখন
এ কাজ করতে হলে অভিভাবকের সম্মতির দরকার হয়। কিন্তু ম্যারাডোনা ওসবের ধার ধারেননি।
যে কারণে আর্জেন্টিনায় বেশি দিন থাকতে হয় আমাদের। ম্যারাডোনা ছোট স্তন পছন্দ করতেন
না। তাঁর বিশেষ আগ্রহেই এ কাজ করতে হয়। কিন্তু আমার শরীরে পর্যাপ্ত চামড়া না থাকার
কারণে ম্যারাডোনার প্রত্যাশা অনুযায়ী স্তনের আকার দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
পান থেকে চুন খসলেই মাভিসকে শারীরিকভাবে
নির্যাতন করতেন ম্যারাডোনা, ‘তিনি অনেকবার আমার গায়ে হাত তুলেছিলেন।
একদিন ক্লদিয়া (ম্যারাডোনার প্রথম স্ত্রী) ফোন করলেন তাঁর নম্বরে। ম্যারাডোনা তখন আমার
পাশে ঘুমাচ্ছিলেন। ক্লদিয়া বললেন, ডিয়েগোকে দাও। আমি ফোনটা ডিয়েগোর হাতে দিলাম। আমি
ফোন কেন ধরলাম, তা নিয়ে আমাকে মারা শুরু করলেন ম্যারাডোনা। চড়থাপ্পড় মারতে মারতে বললেন,
আমি যেন জীবনেও আর তাঁর ফোন না ধরি। ওদিন মনে হচ্ছিল, ম্যারাডোনা আমাকে মেরেই ফেলবেন।
মোদ্দা কথা এটাই, তিনি অনেকবার আমার গায়ে হাত তুলেছেন।’

