Logo
শিরোনাম

জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর কলম্বোয় কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১১ নভেম্বর ২০২৩ | ১৩০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শ্রীলঙ্কায় অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার প্রথম দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিন রাজধানী কলম্বোতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দোকানপাট খুলতে দেখা যায়।

শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা সামরিক বাহিনীকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও গ্রেপ্তারে অনুমতি দেওয়া কঠোর আইন বলবৎ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা-সরবরাহ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিতে ক্ষুব্ধ কয়েকশ বিক্ষোভকারী বৃহস্পতিবার রাজাপাকসের বাসভবনের বাইরে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়; তারা রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবি করে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং বিভিন্ন এলাকার বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার কলম্বো ও এর আশপাশে কারফিউ দেয়।

শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বেইল আউট নেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি ভারত ও চীনের কাছে নতুন ঋণ চাওয়া হবে।

২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির কাছে আমদানিকৃত জ্বালানির দাম পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা নেই।

জ্বালানি সংকটে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধারের পানি বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে যাওয়ায় সেখানেও উৎপাদন সংকট দেখা দিয়েছে; ফলে দেশজুড়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

টানা কয়েকটি সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। মহামারী দেশটির পর্যটন ও রেমিট্যান্স খাতে বড় আঘাত হেনেছে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জুলি চাং বলেছেন, শ্রীলঙ্কানদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে, এটা গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশে অপরিহার্য।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আমি, আশা করছি আসছে দিনগুলোতে সবপক্ষই সংযত হবে; এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তিও খুব দরকার।


আরও খবর