
ইউক্রেনের লুহানস্ক
অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলীয় বিলোহোরিভকা গ্রামের একটি স্কুলে রুশ সেনাদের বোমা হামলায় দুজন
নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও ৬০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে রোববার (৮ মে) জানিয়েছেন
লুহানস্কের গভর্নর সেরহি গাইদাই।
গভর্নর সেরহি
জানান, রাশিয়ান বাহিনী শনিবার (৭ মে) বিকেলে ওই স্কুলে একটি বোমা ফেলে, যেখানে স্থানীয়
প্রায় ৯০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছিল। এ হামলার পরপরই স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়।
খবর রয়টার্সের।
টেলিগ্রামে
লুহানস্কের গভর্নর লেখেন, প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এরপর
ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার
করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজন গুরুতর আহত। এ ছাড়া ওই স্কুল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে
৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে
এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সামরিক অভিযান
শুরুর পর থেকেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ রুশ বাহিনীকে বেসামরিক
লোকদের লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। যদিও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
করেছে মস্কো।
এদিকে ইউক্রেনের
খারকিভে রুশ বাহিনীর দখল করা অঞ্চলে হামলা চালিয়ে বেশকিছু এলাকা শত্রুমুক্ত করার দাবি
করেছে জেলেনস্কি বাহিনী। এর মধ্যেই বন্দরনগরী ওডেসায় ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে
রাশিয়া। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিমান ধ্বংসেরও পাল্টাপাল্টি দাবি
করেছে মস্কো ও কিয়েভ।
শনিবার (৭ মে)
খারকিভে রুশ বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায় ইউক্রেনের সেনা সদস্যরা।
বেশকিছু অঞ্চল রুশ বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে রাশিয়ার
দাবি, এদিন খারকিভের বোহোদুখিভ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সামরিক
সরঞ্জামের একটি বিশাল মজুত ধ্বংস করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
যুদ্ধবিমান
ধ্বংস নিয়েও শনিবার (৭ মে) পাল্টাপাল্টি দাবি করেছে দেশ দুটি। ইউক্রেনের দাবি, একটি
দ্বীপে রাখা রুশ যুদ্ধবিমানে হামলা চালিয়ে সেটা সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ হামলার
একটি স্যাটেলাইট ফুটেজও প্রকাশ করেছে তারা। তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
এদিন ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধবিমান, তিনটি হেলিকপ্টার এবং দুটি তুর্কি ড্রোন ধ্বংস করেছে
রুশ সেনাবাহিনী।
বন্দরনগরী ওডেসায়ও
ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া
মারিউপোলের অবরুদ্ধ একটি কারখানা থেকে নারী ও শিশুসহ সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া
হয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আটকে
থেকে খাবার ও পানি সংকটে পড়েছিলেন ইউক্রেনের অনেক নাগরিক।
জেলেনস্কি বলেন,
এই উদ্ধার অভিযানে যারা অংশ নিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিন শতাধিক নারী, শিশু
ও বৃদ্ধকে আমরা উদ্ধার করেছি। এবার ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় যারা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের
উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হবে।

