
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরান বলছে, ওয়াশিংটন ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রাখার জন্য এটি করেছে। খবর আনাদোলুর।
এর আগে বুধবার
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরাকের ইরবিলে হামলার
সপ্তাহখানেক পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। যে হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি
গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্রের
রাজস্ব বিভাগ জানায়, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়নে
সম্পৃক্ত আইআরজিসির বিভাগকে লক্ষ্য করে।
এক বিবৃতিতে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকেন্দ্রিক
কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাকে এ কার্যক্রম
থেকে বিরত রাখতে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার
প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা
ইরানের জনগণের প্রতি ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের বিদ্বেষ প্রমাণ করে’।
খাতিবজাদে আরও
বলেন, পরমাণু চুক্তিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা যুক্তরাষ্ট্র ‘অব্যাহতভাবে এ চুক্তি ও জাতিসংঘের
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২২৩১-এর লঙ্ঘন’ করে চলেছে।
এমন এক সময়ে
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যখন বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে তেহরানের
পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেখানে তেহরানের দাবি
ছিল, তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। একই সঙ্গে দেশটি বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র
কর্মসূচি ‘আলোচনার বিষয়’ হবে না।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে ইরান নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে
ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। গত মাসে দেশটি তৃতীয় প্রজন্মের খায়বার শিকান ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে। যার রেঞ্জ এক হাজার ৪৫০ কিলোমিটার।
এর আগে ডিসেম্বরে একটি সামরিক মহড়ায় ডজনের চেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
প্রদর্শন করেছিল দেশটি।

