Logo
শিরোনাম

হ্যাকিংয়ের শিকার মাইক্রোসফট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৪ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০২৩ | ১৬৫৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

এনভিডিয়া, স্যামসাং এবং ইউবিসফটের পর এবার হ্যাকারদের দল ল্যাপসাস-এর আক্রমণের শিকার হয়েছে মাইক্রোসফট। বিং ও কর্টানার সোর্স কোড চুরি করার দাবি করেছিল হ্যাকাররা, সেই দাবি নিশ্চিত করেছে সফটওয়্যার জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি অনলাইনে একটি আর্কাইভ ফাইল পোস্ট করেছে ল্যাপসাস। হ্যাকারদের দাবি, ৩৭ জিবির ফাইলটিতে বিং ও কর্টানার আংশিক সোর্স কোড আছে।

হ্যাকিংয়ের খবর মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে মাইক্রোসফট। হামলার হোতাকে ডেভ-০৫৩৭ বলে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে কেবল একটি অ্যাকাউন্ট এবং খোয়া গেছে কিছু পণ্যের আংশিক সোর্স কোড।

নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ল্যাপসাসের কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখছেন মাইক্রোসফটের তদন্তকারীরা। তদন্ত চলছে হ্যাকিংয়ের কৌশল নিয়েও।

মাইক্রোসফট থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সেন্টার (এমএসটিআইসি) বলছে, ডেভ-০৫৩৭-এর সদস্যদের লক্ষ্য হচ্ছে চুরি করা লগইন তথ্য দিয়ে উচ্চস্তরে প্রবেশাধিকার নিয়ে ডেটা চুরি করা এবং টার্গেট প্রতিষ্ঠানের ওপর বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো। ক্ষেত্রবিশেষে মুক্তিপণ্য নেয় তারা। কৌশল এবং লক্ষ্য বিশ্লেষণ করে ইঙ্গিত মিলছে চুরি ও ক্ষতিসাধনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সাইবার অপরাধীরা।

শীর্ষ এ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ফাঁস হওয়া কোড এতো গুরুতর নয় যে এর কারণে ঝুঁকি বাড়বে। হ্যাকারদের মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

গেল কয়েক মাসে কয়েকবার খবরের শিরোনামে এসেছে ল্যাপসাস। ওকটা, স্যামসাং, ইউবিসফট এবং এনভিডিয়ার কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে ডেটা চুরির দাবি করেছিল হ্যাকারদের দলটি। সে তালিকায় এবার যোগ হলো মাইক্রোসফটের নাম।

ডেটা চুরির খবর নিশ্চিত করেছিল স্যামসাং এবং এনভিডিয়া। তবে হ্যাকারদের দাবির বিরোধীতা করে ওকটা দাবি করেছিল, ওকটা সেবা আক্রান্ত হয়নি এবং সম্পূর্ণ কার্যকর আছে।

হ্যাকিং প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট বলছে, এ সপ্তাহেই এক অপরাধী জনসমক্ষে দাবি করেন যে, তারা মাইক্রোসফটে প্রবেশাধিকার পেয়েছেন এবং সোর্স কোডের একাংশ চুরি করে নিয়েছেন। ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো ক্রেতার কোড বা ডেটা সংশ্লিষ্ট ছিল না। আমাদের তদন্ত বলছে, কেবল একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল যার মাধ্যমে সীমিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল হ্যাকাররা।

মাইক্রোসফট নিরাপত্তা প্রস্তুতি হিসেবে কোডের গোপনতার উপর নির্ভর করে না এবং সোর্স কোড দেখে ফেলার কারণে ঝুঁকি বাড়ে না।-- যোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা সোর্স কোডে দেখে ফেলেছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে এর আগেও এমন বিবৃতি দিয়েছে মাইক্রোসফট। সোলারউইন্ড হামলার বেলাতেও একই কথা বলেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে, ল্যাপসাস বলছে, বিং ও কর্টানার ৪৫ শতাংশ কোড এবং বিং ম্যাপসের ৯০ শতাংশ চুরি করতে পেরেছে তারা। প্রথম দুটির তুলনায় বিং ম্যাপস-কে সম্ভবত কম গুরুত্বের টার্গেট হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে উঠে এসেছে ভার্জের প্রতিবেদনে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু সম্ভাব্য পদক্ষেপ বাতলে দিয়েছে মাইক্রোসফট। এর মধ্যে আছে মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফিচারের ব্যবহার বৃদ্ধি।

টেক্সট মেসেজে বা দ্বিতীয় ইমেইল অ্যাড্রেসেরে মতো দুর্বল অথেনটিকেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি কর্মীদের সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণ সম্পর্কে শেখানোর এবং ল্যাপসাসের সম্ভাব্য আক্রমণের বেলায় প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়াও, ল্যাপসাস কোনো সেবাগ্রাহকের ওপর সাইবার হামলা চালায় কি না, দিকেও নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।


আরও খবর

কমেছে রোলেক্স ও প্যাটেক ফিলিপ ঘড়ির দাম

বুধবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩