
সাদিও মানে! একজন সেনেগালীয় পেশাদার ফুটবলার। ১৯৯২ সালে ১০ এপ্রিল জন্ম নেয়া মানের বয়স এখন ২৯। ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল লীগের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের তিন দশকের শিরোপা খরা দূর করার নায়কদের একজন তিনি। ক্লাবের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগও। এতো বড় তারকা তবুও দেশের হয়ে ছিল না কোনো অর্জন। অবশেষে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের মধ্য দিয়ে দেশের হয়ে স্বপ্ন পুরোণ হল। তাই সাদিও মানের কাছে এই দিনটি তাই জীবনের সেরা। আর এই সাফল্য?
রোববার রাতে
ক্যামেরুনের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে মিশরকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো
শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মানের দল। শিরোপা জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মানে বলেন,
ক্লাব পর্যায়ে জেতা সব অর্জনের চেয়ে প্রাপ্তির তালিকায় এটিই তার কাছে সবচেয়ে এগিয়ে
থাকবে। দেশকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে পেরে উচ্ছ্বসিত তিনি। তিনি বলেন,‘এটা আমার জীবনের সেরা দিন এবং আমার
ক্যারিয়ারের সেরা ট্রফি।’
এছাড়া তিনি
বলেন,‘আমি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও আরও কয়েকটি ট্রফি জিতেছি। কিন্তু এটি (আফ্রিকান নেশন্স কাপ) আমার
কাছে বিশেষ কিছু। এটি আমার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য, আমার দেশের মানুষের
জন্য এবং আমার পরিবারের সবার জন্য আমি খুশি।’
ফাইনালের মতো
স্নায়ুচাপের মঞ্চে শুরুতেই পেনাল্টি মিস করার মানেই একজন খেলোয়াড়ের ভেঙে পড়া। মানের
জন্যও তা কম ধাক্কা ছিল না। তবে যেভাবে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তা অসাধারণের চেয়েও বেশি।
এ বিষয়ে সতীর্থদের এ জন্য ধন্যবাদ দিতে ভুল করেননি তিনি। ‘প্রথম পেনাল্টি মিস করার ঘটনাটা
আমার জন্য ছিল বড় ধাক্কা। আমার সতীর্থরা তখন আমার কাছে এসে বলেছিল, ‘সাদিও আমরা একসঙ্গে জিতি এবং একসঙ্গে
হারি। আমরা তোমাকে জানি। তুমি আমাদের জন্য অনেক করেছো-এগিয়ে যাও।’
তিনটি গোল করে
ও সতীর্থদের দিয়ে দুটি করিয়ে সেনেগালকে ফাইনালে তোলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা মানের। আর শেষে
টাইব্রেকারে ওই শিরোপা জয়ী শট। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন তারকা
এই ফরোয়ার্ড।

