
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে কিলিয়ান এমবাপ্পের শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালকে হারিয়েছে পিএসজি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা চতুর্থ মিনিটে ফরাসি তারকা গোল করলে ১-০ ব্যবধানে রিয়ালকে হারায় মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। চোট আক্রান্ত রিয়ালের বিপরীতে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখায় পিএসজি। বল পজিশন রাখে তারা ৫৮ শতাংশ। রিয়ালের ৩টি শট নেয়, আর পিএসজির ২১টি। অন টার্গেটে পিএসজির যেখানে ৮টি শট ছিল, সেখারে রিয়াল একটিও রাখতে পারেনি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির সেরা তারকা লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস ও দুদলের ৪ খেলোয়াড় করে ৮জন হলুদ কার্ড দেখায় ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করে। রিয়ালের কাসেমিরো হলদু কার্ড দেখেছেন। এই কার্ড দেখায় পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। চোট কাটিয়ে করিম বেনজেমাকে রিয়াল শিবিরে ফেরেন। তবে পিএসজির নেইমারকে বিরতির পর মাঠে নামান কোচ পচেত্তিনো।
খেলার ১৮তম মিনিটে
গোলের আরও একটি সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। এমবাপ্পে লম্বা পাসে বল পেয়ে যান । তিনি বল
নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। তার সামনে ছিলেন থিবাউ কোর্তোয়া। তবে কোর্তোয়াকে একা পাওয়ার
পাশাপাশি সময়ও পেয়েছিলেন কিছুটা। কিন্তু জোরালো শট নিতে পারেননি। পারেননি গোল করতে।
তার নেওয়া শট কোর্তোয়ার ডান পায়ে লেগে কর্নার হয়। প্রথমার্ধে একমাত্র এটিই ছিল পিএসজির
অন টার্গেটে শট।
বিরতির পরও আক্রমণের
ধারা বজায় রাখে রিয়াল। ৫০তম মিনিটে দলটি এমবাপ্পের শট কোর্তোয়া ঝাঁপিয়ে ঠেকান। তবে
৫৪তম মিনিট রিয়ালও ব্যর্থ হয়। টনি ক্রুস দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ৬১তম
মিনিটে পিএসজি শিবিরকে হতাশ করেন মেসি। দানি কারভাহাল এমবাপেকে ডি-বক্সে ফাউল করলে
রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পরে স্পটকিক থেকে আর্জেন্টাইন তারকার দুর্বল শট ঝাঁপিয়ে
ঠেকান কোর্তোয়া।
৭৩তম মিনিটে দি
মারিয়াকে বদলি হিসেবে নেইমার মাঠে নামেন। এর তিন মিনিট পর মেসির পাস ডি-বক্সে বাঁ দিকে
পেয়ে কোনাকুনি শট নেন এমবাপে। বল কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে
যায়।
অবশেষে ম্যাচের
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর যোগ করা চতুর্থ মিনিটে উদযাপনে মাতে পিএসজি। নেইমারের ব্যাকহিল
পেয়ে যান এমবাপ্পে। সেখান থেকে রিয়ালের দুজনকে পরাস্থ করে ডি-বক্সে ঢুকে আরেকজনের বাধা
এড়িয়ে দুরূহ কোণ থেকে শট নেন তিনি। পুরো ম্যাচে অসাধারণ কিছু সেভ করা কর্তোয়া এবার
আর দলকে বাঁচাতে পারলেন না।

