
শরীরে খারাপ
ও ভাল দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে। খারাপ কোলেস্টরলকে বলা হয় ‘লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন’ (এলডিএল) এবং ভাল কোলেস্টেরলকে
বলা হয় ‘হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন’ (এইচডিএল)। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লেই হৃদরোগে আক্রান্ত
হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়ে স্ট্রোকের সম্ভাবনাও।
তাই শরীরে এইচডিএল-এর
সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। খাদ্যতালিকায় এবং জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন
আনলেই রক্তে এইচডিএল-এর মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ভারতীয় গণমাধ্যম
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুধ
খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওবেসিটি’ শীর্ষক গবেষণা পত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুধ পান করলে কোলেস্টেরলের
মাত্রা বাড়ে না। গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, দুধ শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে
দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দুধ খান তাদের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা
প্রায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পায়। পরিমিত পরিমাণে দুধ খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ারও কোনও আশঙ্কা
থাকে না।
দুধ বিভিন্ন
উপকারী পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দুধ হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। বার্ধ্যকে
অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও দুধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন
বি ১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, আয়োডিন থাকে। এসব উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার
জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হলে দুধের পাশাপাশি অনেকে মাংস, ডিমও এড়িয়ে চলেন । কিন্তু
এই খাবারগুলিতেই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ক্যালশিয়াম, প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্য উপকারী
কিছু উপাদান রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কোলেস্টেল থাকলে সবই খাওয়া যেতে পারে। তবে অল্প
পরিমাণে । বরং সপ্তাহে ৪-৬টি ডিম, দু’বার
মুরগির মাংস, এক গ্লাস দুধ খেলে শরীরের উপকারই হয়।

