
বিনোদন জগতে ফের নক্ষত্রপতন। টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ মার্চ) রাতে একটি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে ছিলেন অভিনেতা। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেই অবস্থাতেই ফিরে যান বাড়িতে। রাতে বাড়িতেই শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। রাত ১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রবাদপ্রতিম এ অভিনেতা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
নব্বইয়ের দশকে
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা ছিলেন অভিষেক। এক সময় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়,
তাপস পালদের সঙ্গে একসারিতে নাম উঠে আসত তার। উৎপল দত্ত, সন্ধ্যা রায়ের মতো প্রতিভাশালী
অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দায় দেখা গেছে তাকে। শতাব্দি রায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো সমসাময়িক
প্রথম সারির অভিনেত্রীদের সঙ্গেও চুটিয়ে কাজ করেছেন।
১৯৬৪ সালের
৩০ এপ্রিল জন্ম অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯৮৬ সালে তরুণ মজুমদারের ছবি ‘পথভোলা’ দিয়ে সিনেমায় যাত্রা শুরু। তার
অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হলো, ‘দহন’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘মধুর মিলন’ , ‘মায়ের আঁচল’, ‘আলো’, ‘নীলাচলে কিরীটি’। শুধু বড় পর্দা নয়, ছোট পর্দাতেও তিনি সমানভাবে সাবলীল অভিনয় করে
দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন।
তবে দীর্ঘ দিন
টালিউড থেকে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপের সুরও উঠে আসে তার
গলায়। প্রথম সারির অভিনেতা হয়েও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জানান,
একের পর এক ছবি থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে, তা-ও টালিউডের রাজনীতির জন্য। সেই সময়
যাত্রা, মাচা করে সংসার চালাতে হয় তাকে।
এরপর গত কয়েক
বছর ধরে টেলিভিশনে চুটিয়ে অভিনয় করছিলেন অভিষেক।
‘ইচ্ছেনদী’, ‘পিতা’, ‘অপুর সংসার’, ‘অন্দরমহল’, ‘কুসুম দোলা’, ‘ফাগুন বউ’, ‘খড়কুটো’র মতো সিরিয়ালে তার অভিনয় মন জিতে নিয়েছিল দর্শকের। আচমকা তার মৃত্যুর
এ খবরে শোকস্তব্ধ বাংলার বিনোদন জগৎ।

