
উন্নয়ন প্রকল্প
বাস্তবায়নে বড় বাধা ভূমি অধিগ্রহণ। সড়ক নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের জমি অধিগ্রহণ
হয়েছে, কিন্তু অন্যদের জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে সড়ক নির্মাণকাজ ব্যাহত
হচ্ছে। আর এই বিলম্বজনিত কারণে ঠিকাদার অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সড়ক
ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার
ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের সাড়ে ২৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ
করেছে সরকার। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যায়। অনেকে অধিগ্রহণের
খবর পেয়ে কৃষি জমিতেও স্থাপনা তৈরি করে ফেলেন। জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টাও চলে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করছে সওজ। সাসেক-২ নামে পরিচিত
এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়েছে। অথচ এ প্রকল্পের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ
তার পরিবারের জমি অধিগ্রহণ হয়েছে খুব সহজে। যদিও ওই জমি অধিগ্রহণে অস্বস্তিবোধ করেছিল
জেলা প্রশাসন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশনা
দেন; কিন্তু অন্য জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখার ধীরগতি, একটি সরকারি
সংস্থার অসহযোগিতা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে আপত্তি এবং শ্রেণি পরিবর্তন জটিলতা
চলছে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে। একই প্রকল্পে বিটুমিন ও পাথর
সংকটের কারণে নির্মাণকাজ ব্যহত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। গত ২৫ মে সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল
ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিএসসি) সভায় বলা হয়েছে, গোবিন্দগঞ্জে
ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতিতে ফ্লাইওভারের ঠিকাদারকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ দেরির
কারণে ঠিকাদার ইতোমধ্যে বাড়তি টাকা দাবি করেছেন। তা ছাড়া বিটুমিন ও পাথর সংকটে কাজ
ব্যহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সড়ক
পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, সাসেক-২ প্রকল্পে অধিগ্রহণজনিত সমস্যা
তেমন নেই। যেখানে সমস্যা, সেখানকার ডিসির সঙ্গে আলাপ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখন আর সমস্যা নেই বললেই চলে।
সড়ক ও জনপথ
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, এ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর
পরিবারের জমি ছিল। প্রধানমন্ত্রী জানতে পেরে অধিগ্রহণে তার সানুগ্রহ সম্মতি মিলেছে।
আমার জানা মতে, প্রকল্পের আরও কিছু জমি এখনো অধিগ্রহণ করা যায়নি। সেসব জমির মালিকানা
ব্যক্তি বা অন্য পর্যায়ে। তবে আশা করি তা হয়ে যাবে। অধিগ্রহণ ছাড়া আরও অসুবিধা আছে।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে,
সওজের সাসেক-২ নামের প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও
মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের সাড়ে ২৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিঞার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। তার মৃত্যুর
পর ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক হয়েছেন শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে চারলেনের মহাসড়কের একাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর
পরিবারের জমি অধিগ্রহণের মামলা নম্বর (এলএ কেস) ১৯/২০১৮-১৯। পীরগঞ্জের ফতেহপুর বুজরুক
মৌজার চার নম্বর দাগে ৬ শতাংশ এবং পাঁচ নম্বর দাগে ৮ শতাংশ বাণিজ্যিক জমি অধিগ্রহণ
করা হয়েছে। ওয়াজেদ মিঞার মৃত্যুতে ওয়ারিশসূত্রে এই জমির মালিক হয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়
ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সেখানকার কিশোরগাড়ী মৌজার এক হাজার ১০১ নম্বর ১৫ শতাংশ বাণিজ্যিক
জমি ওয়াজেদ মিঞার পরিবারের এজমালি সম্পত্তি। তিনি ও তার তিন ভাই আবদুল জলিল মিঞা, আবদুল
খালেক মিঞা ও আবদুল ওয়াহেদ মিঞার নামে এই জমির এসএ রেকর্ড হয়েছে। এ জমির ৬ শতাংশ মহাসড়কের
জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ৬ শতাংশের মধ্যে দেড় শতাংশের মালিকানা ওয়াজেদ মিঞার। তার
মৃত্যুর পর এর দুই আনার মালিকানা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি জমির মালিকানা
পেয়েছেন তার দুই সন্তান। ২০/২০১৮-১৯ এলএ কেসে বাজিতপুর মৌজার ৮০৯ নম্বর দাগে সজীব ওয়াজেদ
জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের আরও ১১ শতাংশ ডাঙ্গাজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে
জমি অধিগ্রহণকে সবচেয়ে বড় বাধা বলছে সওজ। প্রকল্পের জন্য ৩২৬ হেক্টর বা ৮০৫ একর ৫৪
শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে; কিন্তু ছয় বছরে অধিগ্রহণ করা গেছে ২৭০ হেক্টর। ৫৬ হেক্টর
জমি এখনো অধিগ্রহণ করা যায়নি নানা জটিলতায়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারি সংস্থা
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের জমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় ফ্লাইওভারের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে দেশের দীর্ঘতম ইন্টারচেঞ্জের কাজ আটকে আছে।
মন্ত্রণালয়ে
অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বার বার ভূমির শ্রেণি
ও স্থাপনার ধরন পরিবর্তন করছে। সম্পূরক প্রাক্কলন পাঠাচ্ছে। এতে একদিকে প্রকল্পব্যয়
বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে
হচ্ছে। জেলা প্রশাসন প্রাক্কলনকৃত টাকা পরিশোধ না করায় অধিগ্রহণকৃত জমির স্থাপনা উচ্ছেদ
করা যাচ্ছে না। এতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত
এ প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৬৬২
কোটি হয়েছে।
প্রকল্পকর্তারা
ওই বৈঠকে জানান, গাইবান্ধার ভূমি অধিগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই বাজার এলাকায়
ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে ঠিকাদার একটি ফ্লাইওভার নির্মাণে অতিরিক্ত অর্থ দাবি
করছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে জমির শ্রেণি পরিবর্তন,
স্থাপনার ধরন পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে সম্পূরক প্রাক্কলন বা সংশোধিত প্রাক্কলন পাঠানো
হচ্ছে। যাতে একদিকে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিব্রতকর
অবস্থায় পড়তে হচ্ছে; কিন্তু প্রাক্কলনের অর্থ পরিশোধ করা না হলে স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ
করা যাচ্ছে না। এতে প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে
ভূমি হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
দেশের যে কোনো
ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা
অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধ করে সেখানে, কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা কারণে প্রকল্পের ভূমি
অধিগ্রহণ কাজে দেরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে
সম্প্রতি সওজ থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প
বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণে অস্বাভাবিক
দীর্ঘসূত্রতা। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, ঠিকাদার
ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে আইনি বিরোধের উৎপত্তি অবধারিত। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি
হয়।
সূত্রমতে, সওজের
সুপারিশে প্রথমেই বলা হয়েছে- প্রত্যাশিত সংস্থা থেকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব প্রাপ্তির
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৪ ধারার নোটিশ জারির বাধ্যবাধকতা। এ ছাড়া প্রস্তাবের সঙ্গে
দাখিলকৃত ভিডিওচিত্র আমলে নেওয়া। এর বড় কারণ অধিগ্রহণের খবর পেলেই একটি চক্র সেখানে
স্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করে অধিক ক্ষতিপূরণের লোভে। অধিগ্রহণ প্রস্তাবের নির্দিষ্ট
সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্প করিডরের মধ্যে ভূমির ক্রয়-বিক্রয়
ও স্থাপনা নির্মাণ সীমিত করতে হবে। তা ছাড়া মৌজাভিত্তিক দর নির্ধারণকালে বিগত এক বছরের
ক্রয়-বিক্রয় ডাটা সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে দেখা যাবে অস্বাভাবিক দরে অতি নগণ্য পরিমাণ
জমি বিক্রি হয়েছে। একে বলে নন-রিপ্রেজেনটেটিভ ডাটা। এগুলো বাদ দিয়ে মৌজার গড় দর নির্ধারণ
করতে হবে। এ ছাড়া আইনের বিভিন্ন ধাপের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে বলেছে সওজ।
সাসেক-২ প্রকল্প
নিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, কোভিড-১৯ জনিত কারণে ২০২০ সালে
ও ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। বর্ডার লকডাউন,
আন্তর্জাতিক ফ্রেইট বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি আমদানি স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রকল্পের বিদেশি পরামর্শক ও ঠিকাদারের প্রকৌশলীদের আসা বিলম্বিত হয়। একারণে সড়ক নির্মাণকাজে
কাক্সিক্ষত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের প্যাকেজ ৭ ও ৮ বাস্তবায়নে ঠিকাদারের ধীরগতি
দৃশ্যমান। ধীরগতিতে কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিএসসি
সভায় আলোচনা হয়।
সড়ক নির্মাণকাজের
জন্য ৬০/৭০ গ্রেডের বিটুমিন দরকার। নির্মাণকাজের স্থায়ীত্বের জন্য বিটুমিনের গুণগত
মান ঠিক থাকা জরুরি। সাধারণত দেশি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির বিটুমিন ব্যবহার
করে সওজ। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হয় সরকার, কিন্তু
সাম্প্রতিক সময়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির বিটুমিনের সরবরাহ অপ্রতুল।
প্রকল্পের নির্মাণকাজ
মূলত ভারত ও ভুটান থেকে আমদানিকৃত পাথরের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকৃত বোল্ডার সড়ক নির্মাণের
জন্য উপযুক্ত সাইজে ক্রাশ করা হয়; কিন্তু সম্প্রতি ভারত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের
কারণে ভুটান ও ভারতের বোল্ডার সরবরাহে অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে।
সারফেসিং কোর্সে
পলিমার মডিফায়েড বিটুমিনের ব্যবহার সাসেক-২ প্রকল্পের ডিজাইন এবং স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী
বিটুমিনাস সারফেসিং কোর্স নির্মাণের জন্য ৬০-৭০ পেনিড্রেশন গ্রেড বিটুমিন ব্যবহারের
উল্লেখ রয়েছে। তবে টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য উন্নত দেশের আদলে বিটুমিনাস সারফেসিং কোর্স
নির্মাণের জন্য পলিমার মোডিফাইড বিটুমিন ব্যবহার করা গেলে পেভমেন্ট অধিক উচ্চ তাপমাত্রা
সহনশীল, রাটিং ও ক্র্যাক প্রতিরোধী এবং অধিক টেকসই হবে বলে প্রকল্প পরিচালক সভায় উত্থাপন
করেন, কিন্তু এটি মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশনের পরিবর্তনের
দরকার হবে। পলিমার মডিফায়েড বিটুমিন মহাসড়কে রাটিং (দেবে যাওয়া) প্রতিরোধে সক্ষম কিনা
জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে। এ ছাড়া কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে
তা করতে বাধ্য। পলিমার মোডিফায়েড বিটুমিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে প্রকল্পে অতিরিক্ত
প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারের, তাই বিটুমিনাস পেভমেন্টের
ডিজাইন পরিবর্তনের বিষয়টি আপাতত প্রত্যাখ্যান করে অধিক যাচাই করতে মত দেন সভার কর্মকর্তারা।

