
লালমনিরহাটের
কালীগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই
বাংলাদেশি গরুর রাখাল নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২
নভেম্বর) ভোরে কালীগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট সীমান্তের ৯১৭ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর
সাব পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-
কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাকুচি মালগড়া গ্রামের আলতাব মিয়ার ছেলে আসাদুজ্জামান
ভাষানি (৪০) ও একই এলাকার ইদরিস আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন (৪২)।
সীমান্তবাসী জানান,
কয়েকজন গরুর রাখাল বুড়িরহাট সীমান্তের ৯১৭ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব পিলারের
কাছ দিয়ে ভারতের গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু আনতে সে দেশে অনুপ্রবেশ করেন। তারা গরু
নিয়ে ফেরার সময় ভারতের কোচবিহার জেলার ৭৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন সাতভান্ডারিয়া ক্যাম্পের
টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে আসাদুজ্জামান ভাষানি
ও মোসলেম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে এক/দেড়শ’ গজ ভারতের অভ্যন্তরে
মারা যান। এসময় আহত হন কয়েকজন। আহতরা পালিয়ে দেশে ফিরে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভারতীয় সীমান্তবাসী
মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ছবি তুলে বাংলাদেশি সীমান্তবাসীকে পাঠালে তাদের পরিচয় শনাক্ত
হয়। এ রিপোর্ট লেখার সময় মরদেহ দু’টি সীমান্তের
প্রায় এক/দেড়শ’ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে থাকতে
দেখা যায়।
গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যান মাহামুদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত দু’জনের মরদেহ সীমান্তের এক/দেড়শ’ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে। আহতরা
গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মৃত্যু সংখ্যা
বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।
লালমনিরহাট ১৫ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের স্থানীয় ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি জানেন না এবং এ নিয়ে কেউ লিখিতভাবে জানাননি বলে দাবি করেন।

